বৃহস্পতিবার, ১৯-জুলাই ২০১৮, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

প্রশাসনে সন্দেহ-অবিশ্বাস অস্বস্তি-অস্থিরতা

sheershanews24.com

প্রকাশ : ০৮ জুলাই, ২০১৮ ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজের সৌজন্য (২৫ জুন ২০১৮ প্রকাশিত) : দরজায় জাতীয় নির্বাচন কড়া নাড়ছে। আর এই সময়েই যেন সচিবালয়সহ প্রশাসনে কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। জাতীয় নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই এ অস্থিরতার মাত্রা যেন বেড়েই চলেছে। তার সঙ্গে বাড়ছে সন্দেহ-অবিশ্বাসও। কে আওয়ামী লীগ, কে বিএনপি সমর্থক আর কে নিরপেক্ষ- সেটিও অস্বচ্ছ হয়ে উঠছে। কিছুদিন আগেও যারা নিজেদের আওয়ামী লীগ সমর্থক কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করতে এক পা এগিয়ে থাকতেন, এখন কেমন যেন এ বিষয়ে অস্বস্তি ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভূগছেন। বরং এখন চিন্তায় পড়েছেন, আগামীতে কী হবে এ নিয়ে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় পুনর্বার না আসতে পারলে অর্থাৎ ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়ে গেলে তাদের কী দশা হবে, ভেবে পাচ্ছেন না। সার্বিক পরিবেশ-পরিস্থিতি ভালো নয়, এটা মোটামুটি সবাই বুঝতে পারছেন। 
অবস্থা এমন, প্রশাসনে এখন যেন আওয়ামী লীগ সমর্থক অফিসারের আকাল পড়ছে। জনপ্রশাসন সচিব পদে পদায়ন নিয়ে এই দৈন্যতা প্রকাশ পেয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা কাউকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না। তলে তলে অনেকেই বিরোধীদলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য দিচ্ছে। সরকারের অন্যান্য সূত্র থেকেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আর এ কারণেই সন্দেহ-অবিশ্বাস দানা বাঁধছে।
শুধু সচিবালয়েই নয়, সংকট সৃষ্টি হয়েছে মাঠ প্রশাসনে পদায়ন নিয়েও। বর্তমানে মাঠ প্রশাসনে যারা আছেন তাদেরকে, বিশেষ করে ডিসি পদে পদায়ন করা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে অনেক যাচাই-বাছাই করে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য ছাড়াও আওয়ামী লীগের নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে ডিসি পদে পদায়ন হয়েছে। তারপরও এখন বলা হচ্ছে, বিএনপি-জামায়াতের অনুগত কর্মকর্তা ঢুকে পড়েছে ডিসি পদে। এদের দিয়ে নাকি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যাবে না। তাই নতুন করে আবারও ফিট লিস্ট তৈরির জন্য প্রায় ৩শ’ কর্মকর্তাকে সাক্ষাতকারে ডাকা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান এ পদ থেকে চলে যেতে চাইছেন। তার চাকরি আছে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত। তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার করা হচ্ছে। যদিও এটি নিচের পদ। এদিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলমও এ পদে আর থাকতে চাইছেন না। তিনি বিদেশে, বিশেষ করে সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূত হয়ে চলে যেতে চান। অতীতে কখনও কেউ এসব পদ থেকে অন্যত্র চলে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে নজির নেই। কিন্তু তারা কেন সরকারের এই সময়ে চলে যেতে চাইছেন, অনেকের কাছেই রহস্যজনক লাগছে। 
জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে যেমন চরম রেশারেশি চলেছে বিগত দিনে, তেমনি প্রশাসনে দলাদলি ছিল অত্যন্ত মারাত্মক রকমের। এর পরিণতিতে আগামীতে কী হতে পারে, তা নিয়ে আলাপ-আলোচনায় অনেকেই শিউরে উঠছেন। ভেবে পাচ্ছেন না, কী করবেন। গত সাড়ে নয় বছরে কয়েক হাজার কর্মকর্তা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়া পদায়নসহ নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন আরও অনেকে। ফলে এসব নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে গোটা প্রশাসনেই। এমনকি যেসব কর্মকর্তা পদোন্নতিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন তাদেরও অনেকে সুযোগ পেলেই সরকারের সমালোচনা করছেন। নানা অনিয়ম-অপকর্মের দায় এখন আর তারা নিতে চাচ্ছেন না। 
ছয় মাস আগেও রাজনীতি নিয়ে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কাউকে কথা বলতে দেখা যেতো না। এসব আলোচনাকে নিরর্থক, অর্থহীন বা সময়ের অপচয় বলে মনে করা হতো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, থাকবে- এর বাইরে কেউ কিছু চিন্তাও করতে পারতো না। বরং কেউ কথা তুললেও তাকে উপস্থিত অন্যরা থামিয়ে দিতো। বলা হতো, বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে পারবে না। সেই শক্তি তাদের নেই। এদিকে অন্য কোনও বিকল্প শক্তিরও কোনও সম্ভাবনা নেই। আগামী টার্মে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবে- এ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে অনেক আগেই। কিন্তু এ মুহূর্তে ভিন্ন আতংক কাজ করছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি টলটলায়মান। আগামীতে কী হয়, এই আতংকে ভূগছেন অধিকাংশই। কিছুদিন আগেও যারা নিশ্চিত করে বলতেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে-থাকবে, অন্তত আগামী টার্ম পর্যন্ত; তারাই এখন ভিন্ন কথা বলছেন।
বর্তমান সরকারের আমলে প্রশাসনের যারা বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন, এমনকি সচিব হয়েছেন তারাও কেউ কেউ যেন পুরোপুরি সুখী নন। আরও বড় বা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হতে না পারার কারণে তাদের মনে ক্ষোভ-অসন্তোষ। এইসব কর্মকর্তা মনে করছেন, হয়তো তিনি সরকারের কাছের লোক নন তাই তাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এদিকে যারা নিজেদেরকে সরকারের বা আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে দাবি করেন, এদের মধ্যেও দলাদলি ও নানান গ্রুপিং চরমে। সব মিলিয়ে কেউ কারো উপর আস্থা রাখতে পারছেন না। 
কয়েকমাস আগে একটি জাতীয় দৈনিকে এই মর্মে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল যে, মাত্র দু’জন সচিব আওয়ামী লীগের প্রতি প্রকৃত অর্থেই অনুগত বা সমর্থক। এ তথ্য কতটা সত্য তা বলা মুশকিল। তবে নতুন জনপ্রশাসন সচিব নিয়োগকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তা সত্যিই সরকারি দলের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জানা গেছে, জনপ্রশাসন সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে এখন প্রশাসনে। জনপ্রশাসন সচিব পদের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে এমন এক কর্মকর্তার নাম, যিনি মাত্র পৌনে দু’মাস আগে সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। জনপ্রশাসনের ইতিহাসে এমন জুনিয়র কর্মকর্তাকে এ পদে পদায়ন করার নজির আর নেই। প্রশাসনের ‘পেরেন্ট’ মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিত এ মন্ত্রণালয়ে সবসময়ই সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার, যারা নিজেদেরকে অত্যন্ত দক্ষ সরকার হিসেবে দাবি করেন, এই চূড়ান্ত সময়ে এসে কেন এমনটি করতে যাচ্ছেন- এ প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণভবনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে এমন এক ডাকসাইটে কর্মকর্তা শীর্ষকাগজের প্রতিবেদককে যা বললেন সেটি সত্যিই অবাক করার মতো। তিনি জানান, সরকারের এতো সচিবের মধ্যে আর কোন কর্মকর্তাকেই নাকি পাওয়া যায়নি, যিনি প্রকৃতই সরকারের অনুগত এবং আওয়ামী লীগ সমর্থক।
উল্লেখ্য, যার নাম জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে পদায়নের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে তিনি প্রশাসনের ’৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা এবং এই ব্যাচেরও পেছনের দিকে তার সিরিয়াল নম্বর। ’৮২ ব্যাচ এবং স্পেশাল ব্যাচ ছাড়াও ’৮৪ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা বর্তমানে সচিব পদে পদায়নে আছে, যাদের অনেকেই ইতিপূর্বে কট্টর আওয়ামী লীগার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অথচ সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ওই ডাকসাইটে কর্মকর্তা শীর্ষকাগজের প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘ভাই, আপনি বলেন তো, সিনিয়র কাকে সচিব করা যায়? কে মনেপ্রাণে আওয়ামী লীগার?’ তারমতে, উপরে উপরে আওয়ামী লীগ হিসেবে ইতিপূর্বে অনেকেই দাবি করলেও বাস্তবে এদের কেউই আওয়ামী লীগার নয়। সংকটের সময়ে এরা আওয়ামী লীগের জন্য নাকি কোনো ঝুঁকিই নেবে না। এমনকি ’৮৪ ব্যাচের বর্তমানে যেসব সচিব আছেন তাদের একজনেরও নাকি এমন আনুগত্য নেই। 
সত্যিই অবাক করার মতো বিষয়! অথচ বিগত দিনে হাজার হাজার কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে প্রশাসনে চরম দলীয়করণের জন্য দায়ী করা হয়। তাহলে এই দলীয়করণে নিজেদের মনে করে কাদেরকে দফায় দফায় পদোন্নতি, আকর্ষণীয় পদায়নসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলো? তাহলে কী ভুল, সবাই ভুল- এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি কর্মকর্তারা কোনও দলের নয় এবং সুবিধাবাদী চরিত্রের; যে বেশি সুবিধা দেবে তার কাছে আরও বেশি মাত্রায় চাইবে, না পেলে অসন্তুষ্ট হবে- এটাই বাস্তবতা। এখনকার পরিস্থিতি তারই জলন্ত প্রমাণ। নিশ্চয়ই সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন- স্বাধীনতার পরে বেতন বৃদ্ধি, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি বিষয়ে এবং ছুটিছাটায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবচে’ বেশি সুবিধা পেয়েছে বর্তমান সরকারের কাছ থেকে। অথচ গোপন ব্যালটে ভোট নিলে দেখা যাবে, এখানকার ভোটেও সরকারি দল জিততে পারছে না। যা খুবই দুঃখজনক।
প্রশ্ন এসেছে, পদোন্নতি বা সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্তরাও কেন এমন আচরণ করছে? তাহলে কী জনপ্রশাসনে বিগত সময়ে পদোন্নতি-পদায়নেও স্যাবোটাজ হয়েছে? জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়- এখানেও নাকি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে প্রকৃত অর্থে সরকারের অনুগত লোক নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অনুপস্থিত ও অসুস্থতার কারণে তার দফতরটি বস্তুত অকার্যকর ও কর্মহীনই থাকছে বরাবর। এক্ষেত্রে মন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করছেন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। প্রতিমন্ত্রীকে আন-অফিসিয়ালি পরিচালনা করছেন তার পিএস মো, শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। অথচ শাহরিয়ার অতীতে কখনো আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন না। চাকরিজীবনে তিনি বরং বিএনপি সমর্থক কর্মকর্তা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রায় পৌনে দু’বছর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের (তৎকালীন সংস্থাপন) সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ এপিডি উইং-এ দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রশাসনে তখনকার দলাদলিতে তার অন্যতম ভূমিকা ছিল। এসবের পুরস্কার হিসেবেই ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রথম সচিব হিসেবে পোস্টিং পান। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রশাসন সচিব ড. মোজাম্মেল হক খানকেও পরিচালনা করছেন তার পিএস এসএম ফেরদৌস। অথচ এই ফেরদৌস বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে একজন বিএনপি সমর্থক একনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের একান্ত আস্থাভাজন হিসেবে যশোরে ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত পুরো চার বছর বেশ দাপটের সঙ্গে চাকরি করেছেন। ওই সময় ডিসি অফিসে একসঙ্গে তিনটি দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল। অত্যন্ত ব্যস্ত এবং ক্ষমতাবান কর্মকর্তা হিসেবেই সেখানে পরিচিত ছিলেন। সেটি ছিল তার চাকরির প্রথম পোস্টিং। অথচ বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের প্রশ্রয়ে এই জুনিয়র ম্যাজিস্ট্রেটকে তখন এক পর্যায়ে আন-অফিসিয়ালি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। অবশ্য, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর এপিএস শামসুল আলমের এলাকার এবং তার আস্থাভাজন হওয়ায় সেই ক্ষমতাও তিনি তখন ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে। বাড়ি শরিয়তপুর হওয়ার সুবাদে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ আমলে এসএম ফেরদৌস রাতারাতি আওয়ামী লীগ সমর্থক বনে যান।
এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) শেখ ইউসুফ হারুনের গায়ে আওয়ামী লীগের সীল পড়ার বিষয়টি আরও অদ্ভূত বলে জানা গেছে। ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে নিয়োগ পাওয়া এম আবদুল আজিজ এক সময় হবিগঞ্জের ডিসি থাকাকালে তার স্টাফ অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন শেখ ইউসুফ হারুন। ইউসুফ হারুন ওই সময় আবদুল আজিজের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন। উল্লেখ্য, চাকরি জীবনে আবদুল আজিজ বিএনপি সমর্থক কর্মকর্তা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। 
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গোপালগঞ্জের ডিসি পদ শূন্য হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আবদুল আজিজ এ পদে পদায়নের জন্য শেখ ইউসুফ হারুনের নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রস্তাব করেন। এভাবেই ইউসুফ হারুন গায়ে আওয়ামী লীগের সীল লাগাতে সক্ষম হন এবং সেই থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অথচ, এর আগে চাকরিজীবনে, এমনকি ছাত্রজীবনেও কখন আওয়ামী লীগ সমর্থক বলে পরিচিত ছিলেন না। বরং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাকে ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট বলেই গণ্য করা হতো। 
জানা যায়, শেখ ইউসুফ হারুনের ঢাকার ডিসি হওয়ার কাহিনী আরও অদ্ভূত। ইউসুফ হারুনের আগের গোপালগঞ্জের ডিসি নীতিনৈতিকতার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। বিশেষ করে সার সংকটের সময় তা ভালোভাবে মোকাবেলা করতে গিয়ে স্থানীয় নেতাদের অবৈধ আবদার পূরণ করা সম্ভব হয়নি তার। অন্যদিকে ইউসুফ হারুন গোপালগঞ্জের ডিসি হওয়ার পর সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে নানান অবৈধ সুবিধা দেন। যে কারণে তারা ইউসুফ হারুনের উপর বেজায় খুশি ছিল। এদের মাধ্যমেই তিনি পরে এক পর্যায়ে ঢাকায় উঠে আসার জন্য তদবির করেন। তাদের সুপারিশেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের ডিসিকে ঢাকায় যে কোনও একটি পোস্টিং দিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানকে বলেন। কিন্তু মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান মনে করেছিলেন শেখ ইউসুফ হারুনকে ঢাকার ডিসি পদে পদায়নের জন্যই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। কারণ, ওই সময় ঢাকার ডিসি পদটি শূন্য হচ্ছিল। তিনি শেখ ইউসুফ হারুনকে ঢাকার ডিসি পদে পদায়নের প্রস্তাব করেন। প্রধানমন্ত্রী তা দেখে অবাক হন এবং বলেন, আমি তো তাকে ঢাকার ডিসি করতে বলিনি। ঢাকায় যে কোনো একটি পোস্টিং দিতে বলেছি। অবশ্য, শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাবই অনুমোদন করেন বলে জানা গেছে।